নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে শুধু অতীত সরকারের নয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির বিষয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক নীতি সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
আস্থাহীনতা ও সম্পদের হিসাব
‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এই সংলাপে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “বর্তমান সরকার বিগত সরকারের দুর্নীতির ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশ করছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব গত ১৮ মাসেও প্রকাশ না হওয়া আমাদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। তাই এই সরকারের আমলের কর্মকাণ্ড নিয়েও শ্বেতপত্র আসা প্রয়োজন।”
সংলাপে বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ
সংলাপে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসা প্রধান দিকগুলো হলো:
-
উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব: উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব।
-
আস্থার সংকট: এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
-
রাজনৈতিক সংস্কার: অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের সংস্কার সুশাসনের জন্য বেশি জরুরি।
-
সঠিক স্থানে সঠিক মানুষ: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দায়বদ্ধতা নিজের থেকে শুরু হতে হবে এবং সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় বসাতে হবে।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীগণ
সিজিএস-এর এই নীতি সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম জাহিদ, অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার খানম, এবি পার্টির ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া। বক্তারা নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।