১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অনলাইন জুয়া ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ: ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক বদলি

admin
প্রকাশিত ১৮ মার্চ, বুধবার, ২০২৬ ১৬:৪৭:০৬
অনলাইন জুয়া ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ: ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক বদলি

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হককে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

Manual8 Ad Code

বদলি ও দাপ্তরিক আদেশ

আদেশে বলা হয়েছে, ওসি ইমাউল হককে ভাটারা থানা থেকে সরিয়ে ডিএমপির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের নেপথ্যে যা আছে

সম্প্রতি এক প্রবাসী সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওসি ইমাউল হকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী:

Manual8 Ad Code

  • লেনদেনের সময়কাল: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।

  • লেনদেনের পরিমাণ: মাত্র দেড় মাসে তাঁর ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

  • অভিযোগের ধরণ: সাতটি ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে আসা এই অর্থ তিনি ‘এপিআই’ সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যয় করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    Manual6 Ad Code

অ্যাকাউন্টে টাকা আসার উৎসসমূহ

তদন্তে ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে অর্থ প্রেরণের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর উৎস পাওয়া গেছে:

  1. থানার কনস্টেবল: কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা পাঠানো হয়।

    Manual5 Ad Code

  2. এজেন্ট ও ব্যবসায়ী: ভাটারা থানার পেছনের একটি এজেন্ট দোকান থেকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে।

  3. অন্যান্য: নাসিম নামে এক বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে নিবন্ধিত নম্বর থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা জমা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওসির বক্তব্য

শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইমাউল হক। তাঁর দাবি, অনলাইন জুয়া সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাঁর মোবাইল হ্যাক করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন বলে জানান।

তবে ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাওয়ায় বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি জোরালো হচ্ছে।