
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬
আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে এবার স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। শুধু তাই নয়, এই আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে মূল অধ্যাদেশটিতে সংশোধনী আনার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগটি বিএনপির আগের অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছিলেন যে, তারা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন। দলের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, "কোন দল রাজনীতি করবে কি করবে না, তা দেশের জনগণই চূড়ান্তভাবে ফয়সালা করবে।" তবে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা পথেই হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে। নতুন এই আইনের আওতায়:
কার্যক্রমের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং, সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
শাস্তির বিধান: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।
ব্যাংক হিসাব ও অফিস: দলটির সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখার বিষয়টিও আইনি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির এই পদক্ষেপকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এক দল কর্তৃক অন্য দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করার এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে বিএনপির ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, "আজ বিএনপি যে পথে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে একই অস্ত্রের প্রয়োগ বিএনপির বিরুদ্ধেও হতে পারে। এতে করে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।"
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার এক নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সেই সময় বিএনপি সরাসরি সমর্থনের কথা না বললেও, এখন সেই অধ্যাদেশটিকেই আইনি রূপ দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করার কৌশল নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।