৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে

admin
প্রকাশিত ০২ আগস্ট, শনিবার, ২০২৫ ২০:৫০:০৭
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে

Manual4 Ad Code

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। আমরা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে দেব না। বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামীর সংসদ গঠিত হবে, গণপরিষদ গঠিত হবে।’

Manual7 Ad Code

রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে আজ শনিবার এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতির সামনে আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

Manual7 Ad Code

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগের স্বাগত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে আগামী ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি আমাদের দাবি ছিল, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের বিষয়টিও যাতে সুরাহা হয়। জুলাই সনদে বেশির ভাগ জায়গায় ঐকমত্য হয়েছে, কিছু জায়গায় দ্বিমত রয়েছে।

‘ঐকমত্য কমিশন থেকে এখনো জানানো হয়নি, যে বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিমত রয়েছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী। এটার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও ঐকমত্য কমিশন কথা বলেনি। ফলে বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুরাহা হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হবে। আমরা বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। আমরা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে দেব না। বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামীর সংসদ গঠিত হবে, গণপরিষদ গঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে।’

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আগামীকাল রোববার জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে এবং সেখানে এনসিপির নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করা হবে বলে জানান দলটির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘৩ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শহীদ মিনার থেকে সরকার পতনের এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের এক দফা দাবি ঘোষিত হয়েছিল। যে এক দফার মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি জানিয়ে এসেছিলাম। আমরা আমাদের পদযাত্রার মধ্যেও স্পষ্ট করেছি, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন হয়নি। ফলে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণের যে লড়াই, সেটি আমাদের এখনো চালিয়ে যেতে হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশের জন্য আমাদের যে কর্মসূচি ও যে রাষ্ট্র ভাবনার রূপকল্প রয়েছে, তা আমরা আগামীকাল রোববার প্রকাশ করব।’

Manual1 Ad Code

জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রা সম্পর্কে নাহিদ বলেন, ‘অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ গড়তে আমরা ১ জুলাই থেকে জুলাই পদযাত্রা নামের কর্মসূচি পালন করি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৯টি জেলায় আমাদের পদযাত্রা হয়েছে। আমরা প্রত্যেক জায়গায় গিয়েছি, মানুষের কথা শুনেছি। অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সঙ্গে আমরা সাক্ষাৎ করেছি। আহত যোদ্ধা, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা গণমানুষের কাছে গিয়েছি। গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা, দেশ নিয়ে তাদের ভাবনা এবং একটা নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা আমরা শুনেছি।

‘এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা আমরা তৈরি করেছি। শহীদ মিনারে আমরা সেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা এবং আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করব। বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে জনসমাবেশের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। আমরা সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকাল ঢাকার এই সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য।’

নতুন বাংলাদেশের ইশতেহারে কী থাকছে, জানতে চাইলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আগামীকাল তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা, অর্থনীতি নিয়ে পরিকল্পনা, দেশের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ, প্রশাসন নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ইশতেহারের মাধ্যমে জানাব। গত এক বছরের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলব। একই সঙ্গে আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে পরিকল্পনাও আমরা প্রকাশ করব।’

জুলাই ঘোষণাপত্র কেমন হচ্ছে, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রথম তোলা হয়। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা যে ঘোষণাপত্র তৈরি করি, তার একটা খসড়া সরকারের কাছে দেই। এ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের খসড়া ঘোষণাপত্র দেয়। সরকার এখন সবগুলো সমন্বয় করে একটা ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করবে। আমাদের জায়গা থেকে আমরা বলেছি, ঘোষণাপত্রের অবশ্যই সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে। আমরা আশা করছি, সরকারের জায়গা থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সব রাজনৈতিক দল এ বিষয় সমর্থন এবং প্রতিশ্রুতি দেবে।’

Manual4 Ad Code