
সংসদ প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
কমিটি আজ প্রথম দফায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটি এই অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যাচাই শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আকারে এগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করা হবে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী বৈঠকগুলোতে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে।
আজকের বৈঠকে আলোচিত ৪০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো:
গুম ও মানবাধিকার: ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ’।
জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এবং ‘স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’।
নিয়োগ ও বয়সসীমা: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
নিরাপত্তা ও আইন: ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এবং ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’।
দুর্নীতি দমন ও উন্নয়ন: ‘দুদক (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ এবং বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি, এম, নজরুল ইসলাম।
এছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।