
অলংকারী ইউনিয়নে নতুন কাজী নিয়োগ নেই, পুরোনো কাজী দিয়েই চলছে বিবাহ নিবন্ধন
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ৩নং অলংকারী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ না থাকলেও পূর্বের কাজী আবদুল ওয়াদুদের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলংকারী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন কাজী আবদুল ওয়াদুদ। তার বাড়ি রামধানা গ্রামে। পরবর্তীতে রামধানা গ্রাম বিশ্বনাথ পৌরসভার অধিভুক্ত হয়। এরপর অলংকারী ইউনিয়নের জন্য নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়টি সামনে এলেও এখন পর্যন্ত নতুন নিয়োগ হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ৪ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারকে লাইসেন্স প্রদান করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার কার্যএলাকার সীমানা পরিবর্তন করতে পারে। ফলে রামধানা পৌরসভার অধিভুক্ত হওয়ার পর কাজী আবদুল ওয়াদুদের লাইসেন্সের আওতাধীন এলাকা অপরিবর্তিত রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এ ছাড়া একই আইনের ৫ ধারায় বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই কোনো কাজী কোন এলাকার বিবাহ নিবন্ধন করতে পারবেন, তা তার বৈধ লাইসেন্স ও নির্ধারিত কার্যএলাকার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—অলংকারী ইউনিয়নে বর্তমানে বৈধভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কে? পূর্বের কাজী কোন সরকারি আদেশ বা লাইসেন্সের ভিত্তিতে এখনো ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন করছেন?
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি যাচাই করে সরকারি নথির ভিত্তিতে পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়ার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।