
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৫ সাল বিশ্ব করপোরেট নেতৃত্বের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা এক বছর। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের ফলে নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ ও অনিশ্চিত নীতিনির্ধারণের সূচনা হয়। একই সঙ্গে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও, সেটিকে লাভজনক ব্যবসায় রূপ দিতে গিয়ে বহু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) হতাশার মুখে পড়তে হয়।
তবে এই অস্থিরতার মধ্যেও কিছু সিইও ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো ২০২৫ সালের জন্য ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ বিশ্বের সেরা সিইও নির্বাচন করেছে। এ ক্ষেত্রে এসঅ্যান্ডপি ১২০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজ নিজ খাতের গড়ের তুলনায় অতিরিক্ত শেয়ারহোল্ডার রিটার্নের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। তিন বছরের কম সময় দায়িত্বে থাকা সিইওদের বাদ দিয়ে শীর্ষ ১০ জনকে প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়।
প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন—জার্মান অস্ত্র নির্মাতা রাইনমেটাল-এর আরমিন পাপারগার, স্বর্ণখনি প্রতিষ্ঠান নিউমন্ট-এর টম পামার, ফুজিকুরা-এর ওকাদা নাওকি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি-র ডেভিড জাসলাভ, হানহা অ্যারোস্পেস-এর সন জে-ইল, মাইক্রন-এর সঞ্জয় মেহরোত্রা, কিনরস গোল্ড-এর জে পল রোলিনসন, রবিনহুড-এর ভ্লাদিমির টেনেভ, এসকে হাইনিক্স-এর কাক নো-জং এবং সিগেট টেকনোলজি-র ডেভ মসলে।
তবে অতীতের দুর্বল পারফরম্যান্স, করপোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত প্রশ্ন কিংবা বাহ্যিক সৌভাগ্যের প্রভাব থাকায় অনেকেই চূড়ান্ত বিবেচনা থেকে বাদ পড়েন। উদাহরণ হিসেবে, স্বর্ণের দাম প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়ায় খনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়লেও সেটিকে সিইওদের সরাসরি কৃতিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এআই বুমে মেমোরি চিপ খাত লাভবান হলেও, এসকে হাইনিক্সের গবেষণা ও উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
সবশেষে ২০২৫ সালের সেরা সিইও হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাইনমেটালের প্রধান নির্বাহী আরমিন পাপারগার। তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশসহ ১৫৮ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাইনমেটাল একাধিক বড় চুক্তি অর্জন করেছে এবং নৌযান নির্মাণ খাতেও সম্প্রসারণ করেছে।
২০১৩ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা আরমিন পাপারগার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগেই ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনুধাবন করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শিতা, সাহসী সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় নেতৃত্বই ২০২৫ সালের সেরা সিইওর স্বীকৃতি এনে দিয়েছে বলে মনে করছে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’।