নিজস্ব প্রতিবেদক:
আইনজীবীদের নিয়ে কটূক্তি করায় বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বিরুদ্ধে তিনটি মানহানির মামলা হয়েছে। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথকভাবে মামলা তিনটি দায়ের করেন তিনজন আইনজীবী।
তিনটি মামলায় পৃথকভাবে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। তবে হাজিরার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব হাসান (রানা) ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ। মাহবুব হাসানের মামলা আমলে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং সাইফুল ইসলামের মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান আসামির প্রতি সমন জারি করেন।
অন্যদিকে, ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন অ্যাডভোকেট এ টি এম আসাদুজ্জামান। এ মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভিক্টরিয়া চাকমা আসামির প্রতি সমন জারি করেছেন।
বাদী মাহবুব হাসান, সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও আসাদুজ্জামান মামলাগুলোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, “ওকালতি যারা করে, তারা কিন্তু টাউট-বাটপার হয়।”
আইনজীবীরা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, এই বক্তব্যে দেশের আইনজীবী সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, আইনজীবীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এমন মন্তব্য আইনজীবী পেশাকে অপমান করার শামিল, যা তাঁদের সম্মানহানিকর ও মানহানিকর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনজীবী সমাজের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, তার মূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি। মামলাগুলোয় মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার শেষে শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীদের নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আইনজীবী সমাজের কাছে ক্ষমা চান।