নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো প্রতিবছর এদিনটি কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে পালন করে।
এবারের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য গার্ল, আই অ্যাম দ্য চেঞ্জ লিড: গার্লস অন দ্য ফ্রন্টলাইনস অব ক্রাইসিস’, বাংলায় যার অর্থ ‘আমি সেই মেয়ে, আমিই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিই: সংকটের সামনের সারিতে মেয়েরা’।
দিবসটির মূল লক্ষ্য লিঙ্গবৈষম্য দূর করা, শিক্ষার অধিকার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, এবং বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি।
দিবসটির সূচনা
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের সূচনা হয় বেসরকারি সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে, তাদের ‘কারণ আমি একজন মেয়ে’ নামের বৈশ্বিক আন্দোলনের মাধ্যমে। সংস্থার কানাডা শাখার উদ্যোগে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, এবং ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবার দিবসটি পালিত হয়।
বাংলাদেশে কন্যাশিশুর বাস্তবতা
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২,১৫৯টি শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাবে, ৯৯৩টি কন্যাশিশু এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের তথ্যে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম আট মাসে ৩৯০ কন্যাশিশু ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
মানসিক প্রভাব ও পারিবারিক ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার আশঙ্কা কন্যাশিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে তাদের মধ্যে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসহীনতা দেখা দেয়।
পরিবারের উচিত ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করা। পাশাপাশি, পুরুষদেরও নারীর প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ শেখানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুললেই কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে না— কারণ তখন মেয়ে নিজেই জানবে, নিজের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় সে-ই সক্ষম।