
ধর্মীয় ডেস্ক | ২৬ রজব, ১৪৪৭ হিজরি (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)
আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক এই রাতটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করবেন বিশ্বের মুসলিম উম্মাহসহ বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। হিজরি হিজরি সালের রজব মাসের ২৬ তারিখের এই দিবাগত রাতেই প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেছিলেন।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব: নবুওয়াতের দশম বছরে (৬২১ খ্রিষ্টাব্দে) এক রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.) প্রথমে পবিত্র কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে তিনি আম্বিয়া কেরামদের ইমামতি করেন, যা ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। এরপর ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে চড়ে তিনি ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন, যা ‘মেরাজ’ হিসেবে পরিচিত। এই সফরেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে জান্নাত-জাহান্নাম দেখান এবং উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দান করেন।
সরকারি ও বেসরকারি কর্মসূচি: পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও বিশেষ দোয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ইবাদত-বন্দেগি: মহিমান্বিত এই রাতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত কামনায় মুসলমানরা সারা রাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযগার এবং কান্নাকাটিমাখা দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবেন। অনেকে এই পবিত্র দিনটি উপলক্ষে নফল রোজাও পালন করে থাকেন।
পরম শিক্ষা: শবে মেরাজ কেবল একটি অলৌকিক ভ্রমণ নয়, বরং এটি ধৈর্যের প্রতিদান ও আল্লাহর অসীম কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন। এই রাতের শিক্ষা হচ্ছে আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করা।