লাইফস্টাইল ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
২০২৫ সালের শেষে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ জানিয়েছিল, কৃত্রিম চাকচিক্য আর আড়ম্বর এখন অতীত। ২০২৬ সালে এসে সেই পূর্বাভাসই সত্যি হতে চলেছে। এই বছরের ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মানুষ এখন আতিশয্য কমিয়ে মানসিক শান্তি, সুস্বাস্থ্য এবং টেকসই জীবনযাত্রার দিকে ঝুঁকছে। ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে নিজের শেকড়ে ফেরাই এখনকার সবচেয়ে বড় ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’।
ডিজিটাল ডিটক্স ও পুরোনো শখে ফেরা
২০২৬ সালে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। স্মার্টফোনের নীল আলো থেকে বাঁচতে মানুষ এখন ‘স্ক্রিন-লাইট রিচুয়াল’ বা পরিমিত ডিজিটাল ব্যবহারের অভ্যাস করছে। এর বদলে ফিরে আসছে মডেল বিল্ডিং, বুনন, পাখি দেখা বা পাজল মেলানোর মতো পুরোনো দিনের শখগুলো। জিমে কঠোর পরিশ্রমের বদলে প্রাধান্য পাচ্ছে শরীরের ভারসাম্য ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার ব্যায়াম। এমনকি ডিজিটাল ছবির ভিড়ে কাগজের অ্যালবাম বা মুদ্রিত ছবির কদর আবারও বাড়ছে।
ফ্যাশন ও খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য
প্যান্টোন ২০২৬ সালের জন্য ‘ক্লাউড ড্যান্সার’ (ধূসর সাদা) রঙটিকে বছরের সেরা রঙ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফ্যাশনে চিতাবাঘের প্রিন্টের জায়গা দখল করেছে জেব্রা ও সাপের গায়ের ছোপ। চুলের সাজেও এসেছে বড় পরিবর্তন; কড়া রঙের বদলে প্রাকৃতিক আভার ‘উইস্পার টোন’ হাইলাইটস এখন ট্রেন্ডে।
খাবারের পাতেও আসছে আমূল পরিবর্তন। অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে গাঁজানো বা ফারমেন্টেড খাবার এখন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। ওজন কমানোর সচেতনতায় রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের পরিমাণ কমলেও পুষ্টির মানে কোনো ছাড় দিচ্ছে না মানুষ।
প্রযুক্তি ও ঘরোয়া পরিবেশ
প্রযুক্তি এখন আরও ব্যক্তিগত ও সহায়ক। স্মার্ট ঘড়ির বদলে জায়গা করে নিচ্ছে ‘স্মার্ট রিং’। রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে এআই ওভেন ও ভয়েস কমান্ড চালিত রেসিপি অ্যাসিস্ট্যান্ট। ঘরের অন্দরসজ্জায় আসছে উষ্ণতা; কার্ভড ফার্নিচার ও টেক্সচার্ড দেয়ালের মাধ্যমে ঘরকে করে তোলা হচ্ছে আরামদায়ক।
ভ্রমণে নতুন মাত্রা: ‘স্লো ট্রাভেল’
চেকলিস্ট ধরে পর্যটনের দিন ফুরিয়ে আসছে। মানুষ এখন বড় শহরের ভিড় এড়িয়ে জাপানের কানাজাওয়া, সাপোরো বা লিসবনের মতো ছোট কিন্তু সৃজনশীল শহরগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। হোটেলের বদলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে স্থানীয় জীবনধারা শেখার নামই এখন ‘স্লো ট্রাভেল’। বড় উৎসবের চেয়ে পাড়া-মহল্লার ছোট কনসার্ট বা ঘরোয়া আয়োজনগুলোই মানুষের কাছে বেশি অর্থবহ হয়ে উঠছে।
কর্মজীবন ও সামাজিক মাধ্যম
কাজের দুনিয়ায় ফ্রিল্যান্সিং ও একাধিক আয়ের উৎস এখন নতুন স্বাভাবিকতা। কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে মেরামত করা বা রিফারবিশ করাকে এখন আভিজাত্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো অনুসারীর চেয়ে ব্যক্তিগত ছোট গ্রুপ বা কমিউনিটিতে সময় দেওয়াকে মানুষ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিশেষে, ২০২৬ সাল আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জীবনের আসল আনন্দ বড় কোনো অর্জনে নয়। ছোট ছোট ভালো অভ্যাস, সুন্দর সম্পর্ক আর নিজের প্রতি মায়া ও যত্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কাঙ্ক্ষিত সুখ।