চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশু আয়শা (৪) ও মোরশেদ (২)-এর বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায়।
বুধবার (আজ) দুপুরে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ওই দুই শিশুর বাবা দাবি করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন। উদ্ধারকালে শিশু দুটি শীত ও অসুস্থতায় কাহিল অবস্থায় ছিল। পরে আনোয়ারা থানা ও উপজেলা প্রশাসন তাদের পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার শিশু দুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। জেলা প্রশাসক শিশুদের চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেন। এ সময় গুরুতর অসুস্থ মোরশেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আয়শাকে উদ্ধারকারী মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খোরশেদ আলম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি বাঁশখালীর একটি ভাঙারির দোকানেও কাজ করেন। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মহামনি এলাকায়। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বাঁশখালীর মিয়ার বাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানান তিনি। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষা করাতেন, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ হয়।
এদিকে, শিশু দুটিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমলে নেন আদালত। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেন আনোয়ারা থানাকে শিশু আইন–২০১৩ অনুযায়ী মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিশুদের বিষয়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, আদালতের আদেশ পাওয়া গেছে এবং শিশুদের বাবা-মা—উভয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর সার্বিক দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নিয়েছে। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যজনকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয়দানকারীর জিম্মায় রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।