সকালে অ্যালার্ম বাজলেই কি মনে হয়—‘আজ আর অফিসে যাব না’? সহকর্মীদের ওপর কি অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সাবধান! এটি সাধারণ কোনো ক্লান্তি নয়, আপনি হয়তো ‘জব বার্ন আউট’ (Job Burnout)-এর শিকার। এটি কোনো সরাসরি রোগ না হলেও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক অবসাদ, যা সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে বিষণ্নতা, হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
নিজেকে এই ৬টি প্রশ্ন করুন
আপনি বার্ন আউটে ভুগছেন কি না তা বুঝতে নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকে করে দেখুন: ১. কাজের মধ্যে কি কোনো সার্থকতা বা আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না? ২. কাজে মন বসাতে কি চরম কষ্ট হচ্ছে? ৩. সহকর্মী বা গ্রাহকদের ওপর কি প্রায়ই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন? ৪. পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কি নিজেকে সবসময় শক্তিহীন মনে হয়? ৫. মানসিক স্বস্তির জন্য কি অতিরিক্ত খাবার, ড্রাগ বা অ্যালকোহলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন? ৬. অকারণে মাথাব্যথা বা পেটের সমস্যায় কি নিয়মিত ভুগছেন?
মনে রাখবেন: বার্ন আউট কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং এটি কর্মপরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ তরুণ কোনো না কোনোভাবে স্ট্রেস বা এনজাইটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কেন হয় এই ‘বার্ন আউট’?
বার্ন আউটের পেছনে প্রধানত পাঁচটি কারণ দায়ী থাকে:
-
নিয়ন্ত্রণের অভাব: নিজের কাজের সময়সূচি বা ধরনের ওপর কোনো কর্তৃত্ব না থাকা।
-
অস্পষ্ট ভূমিকা: বস বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আপনার কাছে ঠিক কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা পরিষ্কার না থাকা।
-
অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ: সহকর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বা অফিসে ‘বুলিং’ কালচার।
-
কাজের ভারসাম্যহীনতা: কাজ যদি হয় অতিমাত্রায় একঘেয়ে কিংবা অসম্ভব রকমের ব্যস্ত।
-
ব্যক্তিগত জীবনের সংঘাত: কাজ আর পরিবারের সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারা।
বার্ন আউট কাটানোর ৬ উপায়
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
১. খোলামেলা আলোচনা: আপনার কাজের চাপ বা উদ্বেগ নিয়ে বসের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে কাজের সময়সূচি বা ধরনে পরিবর্তনের অনুরোধ করুন। ২. ‘না’ বলতে শিখুন: সব দায়িত্ব একা কাঁধে নেবেন না। অতিরিক্ত নিখুঁত হতে গিয়ে নিজেকে চাপে ফেলবেন না। ৩. ব্যায়াম ও মাইন্ডফুলনেস: নিয়মিত যোগব্যায়াম বা গভীর শ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম মস্তিষ্কে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসরণ করে, যা মন ভালো রাখে। ৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্য: শরীর ও মন পুনর্গঠনের জন্য গভীর ঘুমের বিকল্প নেই। চিনি ও ক্যাফেইন কমিয়ে পুষ্টিকর খাবারে মনোযোগ দিন। ৫. শখের কাজে সময় দিন: বাগান করা, বই পড়া বা গান শোনার মতো শখগুলো আপনার মনকে ‘রিচার্জ’ করতে সাহায্য করবে। ৬. পেশাদার পরামর্শ: অবস্থা গুরুতর হলে লজ্জা না পেয়ে একজন থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিন।
উপসংহার: আপনার স্বাস্থ্যই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। যদি কর্মস্থল আপনার মানসিক ও শারীরিক শান্তি কেড়ে নেয়, তবে স্বাস্থ্যের খাতিরে বিকল্প কিছু ভাবা বা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের কথা চিন্তা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ