তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর আফগানিস্তানে আফিম চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক অফিস (ইউএনওডিসি)। সংস্থাটির সর্বশেষ জরিপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে আফিম চাষের জমি আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ এবং উৎপাদন ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০২২ সালে তালেবান সরকার আফিম চাষ নিষিদ্ধ করে একে ইসলামবিরোধী ও ক্ষতিকর ঘোষণা দেয়। এর আগে আফগানিস্তান ছিল বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি আফিম উৎপাদনকারী দেশ, যা থেকে তৈরি হেরোইন ইউরোপের বাজারের ৯৫ শতাংশ পূরণ করত।
ইউএনওডিসি জানিয়েছে, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বেশির ভাগ কৃষক তালেবানের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন। বর্তমানে কৃষকেরা বিকল্প হিসেবে শস্য চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন, তবে আফিমের তুলনায় এসব ফসল অনেক কম লাভজনক হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ আবাদি জমি অনাবাদী পড়ে আছে।
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে আফিম চাষ হয়েছে আনুমানিক ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে, যার বেশির ভাগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাদাখশান প্রদেশে। নিষেধাজ্ঞার আগে (২০২২ সালে) এই চাষের পরিমাণ ছিল দুই লাখ হেক্টরেরও বেশি।
তবে ইউএনওডিসি সতর্ক করে বলেছে, আফিম চাষ কমলেও নিষেধাজ্ঞার পর থেকে মেথামফেটামিনসহ সিনথেটিক মাদকের উৎপাদন ও পাচার বেড়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এসব মাদক জব্দের হার আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।