১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত শতাধিক

admin
প্রকাশিত ১২ অক্টোবর, রবিবার, ২০২৫ ২৩:২৩:২৬
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত শতাধিক

Manual1 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত। উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলিতে দুই পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

Manual3 Ad Code

আফগান সরকারের দাবি, গত শনিবার রাতে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানে পাকিস্তানের ৫৮ সেনা নিহত হয়েছেন। অপরদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহতের কথা স্বীকার করা হয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে তারা দুই শতাধিক তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং আফগান সীমান্তের ১৯টি ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর দুই দিন পর শনিবার রাতে সীমান্ত এলাকায় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

Manual8 Ad Code

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারিজমি জানান, এটি ছিল তাঁদের দেশের পক্ষ থেকে সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান

Manual2 Ad Code

সরকারি মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, অভিযানে পাকিস্তানের ২০টি নিরাপত্তা ফাঁড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রচুর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দখলে এসেছে। তবে অভিযানে আফগান বাহিনীরও ৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
কাতার ও সৌদি আরবের অনুরোধে রাত ১২টার পর অভিযান স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

জবিহুল্লাহ মুজাহিদের ভাষায়, “আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটিয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বলেন, আফগান হামলা “অযৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। তাঁর ভাষায়,

“আফগানিস্তান যদি ইট ছোড়ে, আমরা পাথর ছুড়ে জবাব দেব।”

Manual2 Ad Code

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তের কুররম এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং কয়েকটি আফগান ফাঁড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু আফগান সেনার আত্মসমর্পণের দৃশ্যও প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ।

এদিকে আফগানিস্তানের অভিযোগ, পাকিস্তান আইএস-খোরাসানকে আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যারা ইরান ও রাশিয়ায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পরিকল্পনা করেছে।
অপরদিকে পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা ভারতের সহায়তায় পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।

শনিবার রাতের সংঘর্ষের পর সীমান্তের দুই প্রধান পথ তোরখাম ও চামান বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। এতে দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। গতকালও বিচ্ছিন্নভাবে গুলিবিনিময় চলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি

সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সফরে আছেন ভারতে—২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর।