
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গত ৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের এই দিন ধার্য করেন।
এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে:
সাক্ষ্য গ্রহণ: মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।
অভিযোগ গঠন: গত ৩০ জুন বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
তদন্তের ভিত্তি: পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিও চিত্র এবং ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টকে প্রসিকিউশন পক্ষ অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন:
শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রক্টর)
রাফিউল হাসান রাসেল (সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার)
মো. আনোয়ার পারভেজ (চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী)
আমির হোসেন (পুলিশের সাবেক এএসআই)
সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল)
ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা)
তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। নিরস্ত্র সাঈদের ওপর সরাসরি পুলিশের রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণের ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুক পেতে দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সেই দৃশ্যটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে এক দফার আন্দোলনে রূপ নিয়ে দেশে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায়।
আইনজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে কেবল আবু সাঈদ হত্যার বিচার নয়, বরং জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি বড় নজির স্থাপিত হতে যাচ্ছে।