সাহান উদ্দিন নাজু
আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী থেকে
আব্দুল্লাহপুর–টঙ্গী–গাজীপুর অঞ্চলের ভগ্নপ্রায় সড়ক সংস্কার, তুরাগ নদীর উপর নতুন সংযোগ সেতু নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান মানবদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই মানববন্ধনের আয়োজন করে সোসাইটি অব ন্যাশনাল মিডিয়া কমিশন (জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন)–এর কেন্দ্রীয় কমিটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি এ.কে.এম আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি কালিমুল্লাহ ইকবাল, সহ-সভাপতি মো. মুসলেহ উদ্দিন বাচ্চু (ঢাকা প্রেসক্লাব), আন্তর্জাতিক সম্পাদক কামাল খান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক তানজিরুল এইচ, পরিবেশ সম্পাদক আর.কে. রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম. বিল্লাহ শিশির, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান, সদস্য আজহার হুসাইন ও জুয়েল মিয়া, মানবাধিকার কর্মী আসলাম মোরল, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আহমদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর অঞ্চলের মানুষের জীবন এখন চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তুরাগ নদীর দুই পাড়ে যাতায়াত করেন। আগে নদীর উপর দুটি বেইলি ব্রিজ ছিল—এর মধ্যে একটি ভেঙে গেছে এবং অন্যটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, টঙ্গী বাজার থেকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা জনজট, যানজট ও দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গর্তে ভরা রাস্তায় পানি জমে থাকা ও ধুলাবালির কারণে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির এবং সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, রাজধানীর পাশে অবস্থিত এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল কীভাবে বছরের পর বছর অবহেলিত থাকতে পারে!
মানববন্ধনে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দ্রুত নতুন সংযোগ সেতু নির্মাণ, পুরনো সেতুর সংস্কার এবং আব্দুল্লাহপুর–টঙ্গী–গাজীপুর অঞ্চলের প্রধান সড়কসমূহের জরুরি পুনর্নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
তারা আরও দাবি করেন—
অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন, চুরি-ছিনতাই রোধে প্রশাসনিক উদ্যোগ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল বৃদ্ধি, ঢাকা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগ, এবং ধুলাবালি প্রতিরোধে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হোক।
বক্তাদের মতে,
“মানুষের মৌলিক চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের যাত্রা অসম্পূর্ণ থাকবে।”
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান—
“মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।”