নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ বা মামলাবাজ নেই। আমরা বেছে বেছে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করেছি। আমরা আগামীতে একটি নতুন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন শর্তে ১১ দলের ঐক্য
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনটি মৌলিক শর্তে আমরা ১১ দল একত্রিত হয়েছি। শর্তগুলো হলো— ১. নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেব না। ২. সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব এবং বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না। ৩. ‘জুলাই সনদ’ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিচারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও সাধারণ মানুষ সমান
আগামী দিনের বিচারব্যবস্থা কেমন হবে তার চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এমন বিচারব্যবস্থা চাই যেখানে সাধারণ মানুষের অপরাধের যে শাস্তি হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি একই অপরাধ করলে তাকেও একই শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিচার কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’
নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুর বা কানাডা হওয়ার স্বপ্ন দেখাই না, আমরা একটি “উত্তম বাংলাদেশ” গড়তে চাই। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলবে—আমিই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মায়েরা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে। সমাজ তাদের যথাযথ মর্যাদা দেবে।’
অর্থনীতি ও শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা
-
বেকারত্ব দূরীকরণ: যুবকেরা বেকার ভাতা চায় না, তারা কাজ চায়। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতি পাল্টে দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।
-
শ্রমিক অধিকার: শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে না। মালিক পক্ষকে শ্রমিক চাওয়ার আগেই পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।
-
নারীবান্ধব কর্মস্থল: কর্মজীবী মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত বেবি কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেন্টার এবং শিল্প এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও ভোট আহ্বান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জাতির বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। চব্বিশের বিপ্লবে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের প্রথম ভোট হবে “হ্যাঁ” (গণভোট), আর দ্বিতীয় ভোট হবে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক “দাঁড়িপাল্লা”।’
জনসভা শেষে তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জোটের প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-এর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।