নিজস্ব প্রতিবেদক | বরগুনা
“বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কোন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই”— চার বছরের শিশু মো. রফিকুল ইসলামের হাতের এই প্ল্যাকার্ডটি আজ কাঁদিয়েছে উপস্থিত সবাইকে। বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত শনিবার (৭ মার্চ) উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া এলাকায় আছিয়া বেগমের (২৫) গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে স্বামী ফরহাদ হোসেন পহলান (৩০) ও তাঁর পরিবার আছিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
মানববন্ধনে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌলভী এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। আছিয়ার চার বছরের বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং ১১ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু আহমদউল্লাহকে নিয়ে স্বজনরা বিচারের দাবিতে রাজপথে নামেন।
বক্তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
-
যৌতুকের নির্যাতন: দীর্ঘ দিন ধরে যৌতুকের জন্য আছিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
-
তৎক্ষণিক কারণ: ঈদে কেনাকাটার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে দেরি হওয়ায় শুক্রবার রাতে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি আছিয়ার বাবার।
-
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয় এবং পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম
মানববন্ধনে আছিয়ার বাবা মজিবর জেমাদ্দার, বোন মনিরা বেগমসহ স্থানীয় বক্তারা আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।