
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেইজিং বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিঞ্জানিকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান।
সংবাদ সম্মেলনে লিন জিয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন সব সময় বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করে আসছে। কোনো একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রীয় নেতাদের টার্গেট করে হত্যা এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। চীন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিঞ্জানি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। লারিঞ্জানিকে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর অন্যতম নীতি-নির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কাতারের রাস লাফান এবং অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই কঠোর অবস্থান তেহরানের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সমর্থন। বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে, তখন বেইজিংয়ের এই বিবৃতি বেইজিং-তেহরান কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই স্পষ্ট করে।
উল্লেখ্য, চীন শুধু ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট।