নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছয়জনকে ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ওসিসহ মোট ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২ জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা
-
মৃত্যুদণ্ড (৬ জন): সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, এসআই আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
-
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৭ জন): ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত এসপি শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন এবং সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস।
-
৭ বছরের কারাদণ্ড (২ জন): এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান।
উল্লেখ্য যে, এই মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়ায় আবজালুল হককে ক্ষমা করে দিয়েছেন আদালত।
সাবেক এসআই মালেকের চিৎকার: ‘আমি গরিব বলে মৃত্যুদণ্ড’
রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় উচ্চস্বরে চিৎকার করে কান্না শুরু করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এসআই আবদুল মালেক। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি আগুন দেইনি। আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মামুন, আর কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল। এ ছাড়া আগুন দেওয়া এএসআই মনিরকে সাক্ষী বানানো হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছে তাদের সাজা সাত-আট বছর। আমি গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারিনি—এ জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ছয় তরুণের লাশ একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এরপর নির্মমভাবে পেট্রোল ঢেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তখন একজনের দেহে প্রাণ ছিল, অর্থাৎ তাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল এবং আজ দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করলেন। রায় ঘোষণার সময় গ্রেপ্তারকৃত আট আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং সাবেক এমপি সাইফুলসহ বাকি আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।