
সুনির্মল সেন:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ও অভিন্ন সত্তা। হিংসা বা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও, জনমানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান চিরস্থায়ী। সুনির্মল সেনের এক বিশেষ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম এবং বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা।
সুনির্মল সেন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সমসাময়িক অনেকের নাম কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু জনগনের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ তাঁকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে। মাত্র ৫৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবনে তিনি যে রাজনৈতিক মহাকাব্য রচনা করেছেন, তা নিয়ে আজ থেকে ১০০০ বছর পরেও একাডেমিক গবেষণা হবে।
বক্তব্যের একটি শক্তিশালী দিক ছিল রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ঊর্ধ্বে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান। সেনের মতে, "আওয়ামী লীগ থাকুক বা না থাকুক, কিংবা ভূখণ্ডের রাজনৈতিক মানচিত্র যাই হোক—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা যতদিন প্রবাহিত হবে, ইতিহাসের রাখাল রাজা সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বঙ্গবন্ধু এবং আজকের ২০ কোটি মানুষের বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন।"
স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে চলমান বিতর্কের চেয়েও বড় সত্য হলো ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়া। নিবন্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।
তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাঁর নামেই শপথ নিয়েছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছিলেন।
তৎকালীন বিশ্ব গণমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকার নথিপত্রই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
বাংলাদেশের ৫৫তম জন্মদিন তথা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ববরেণ্য এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ইতিহাসে তাঁর অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই—এই পরম সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চোখ দিয়ে বাস্তবতাকে দেখা এবং বস্তুনিষ্ঠ চিন্তার মাধ্যমেই সত্যকে চেনার তাগিদ দিয়েছেন লেখক।
"ইতিহাসের সত্য সূর্যের মতো, মেঘ দিয়ে তাকে সাময়িক আড়াল করা গেলেও স্তব্ধ করা যায় না।"