২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরাক নিয়ে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের হুমকির জবাবে বাগদাদের সতর্ক কূটনীতি

admin
প্রকাশিত ০১ অক্টোবর, বুধবার, ২০২৫ ১৬:১১:৪৩
ইরাক নিয়ে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের হুমকির জবাবে বাগদাদের সতর্ক কূটনীতি

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরাক। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে হুমকি দেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ইসরায়েলের লক্ষ্য কী, আর এই বার্তার আসল অর্থ কোথায়?

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর হুমকি

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’। জবাবে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য আখ্যা দিয়ে বলেন, “একজন ইরাকির ওপর হামলা মানেই পুরো জাতির ওপর হামলা।”

Manual6 Ad Code

ইরাকি রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া

রাজনীতিক আবু মিসাক আল-মাসার নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে, গাজায় ব্যর্থতা ঢাকতেই ইসরায়েল নতুন করে ইরাককে টার্গেট করছে।
সভরেইন্টি অ্যালায়েন্স পার্টির নেতা আম্মার আল-আজজাওয়ি বলেন, “জাতিসংঘে তাঁর বক্তৃতার সময় অর্ধেক হল খালি ছিল, যা তাঁর দুর্বলতার প্রমাণ।” তিনি মনে করেন, ইরাক এখন প্রতিরোধ অক্ষের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

প্রতিরোধ গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু

ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার দাবি বহুদিনের। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চারটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করেছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ গোষ্ঠীগুলো সমাজ ও রাজনীতির গভীরে প্রোথিত, ফলে নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টা অবাস্তব।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসেইন আল-কিনানির মতে, “প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো কেবল সশস্ত্র বাহিনী নয়, বরং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। তাদের জোর করে নিরস্ত্র করা গৃহযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।”

Manual6 Ad Code

সিরিয়া সীমান্তে ঝুঁকি

ইরাকের জন্য বাড়তি উদ্বেগের জায়গা হলো সিরিয়া সীমান্ত। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নতুন সংঘাতের অজুহাত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়ার আল-হাওল শিবিরে থাকা সাবেক আইএস যোদ্ধারা এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম। কারণ, বৈশ্বিক তেলের প্রবাহে ইরাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
তবে প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সীমান্তঘেঁষা অস্থিতিশীলতার কারণে ইরাক এখন এক নাজুক অবস্থানে দাঁড়িয়ে। বাগদাদ নতুন সংঘাতের ময়দান হবে, নাকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্র হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করছে ভেতরের শক্তি, প্রতিরোধের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাইরের শক্তিগুলোর ভূমিকায়।

Manual2 Ad Code