
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৬ মার্চ, ২০২৬
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরানি নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইবেন না—এমন আশঙ্কায় ইরানের নাগরিকদের ওপর আগামী ছয় মাসের জন্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন, যা আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, অনেক ইরানি পর্যটন ভিসায় এসে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করতে পারেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন:
"অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের বিষয়টি সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত; কেউ স্রেফ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, তার আকস্মিক ফল এটি হওয়া উচিত নয়।"
এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে অস্ট্রেলীয় ভিসা থাকা প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ইরানি নাগরিক সরাসরি প্রভাবিত হবেন। তবে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সঙ্গী, সন্তান এবং বিশেষ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্য এই নিয়ম কিছুটা শিথিল রাখা হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘চরম নৈতিক ব্যর্থতা’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন শরণার্থী অধিকারকর্মীরা। অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টারের ডেপুটি সিইও জানা ফাভেরা বলেন, "যখন ইরানিদের সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা প্রয়োজন, তখন আলবানিজ সরকার তাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।"
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জালি স্টেগাল এই আইনের বিরোধিতা করে বলেন, বৈধ ভিসা বাতিল করা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টি এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণ দেখছে। দলটির সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ অভিযোগ করেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে পরোক্ষ সমর্থন দিতেই ল্যাবর সরকার এই পথ বেছে নিয়েছে। তাদের মতে, ইরানের মানুষের নিরাপত্তার দোহাই দেওয়াটা একটি 'মিথ্যা অজুহাত' মাত্র।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে বাধা দিতে নতুন আইন আনে অস্ট্রেলিয়া। মজার বিষয় হলো, এই আইনের দিনেই ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন পরে ইরানে ফিরে যান। বর্তমানে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ইরানের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য করা হয়েছে।