নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা | ০২ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের বলি হলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সালেহ আহমদ (৪০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা।
নিহত সালেহ আহমদ বড়লেখা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গাজীটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। গত রবিবার (১ মার্চ) রাতে নিহতের বাড়িতে এই দুঃসংবাদ পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
স্বজনরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে রবিবার ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আজমান শহরের একটি এলাকায় আঘাত হানে। দুর্ভাগ্যবশত সালেহ আহমদ সেই সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন এবং কামানের গোলার বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি প্রাণ হারান। রবিবার রাত ১০টার দিকে প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
শোকাতুর পরিবার ও এলাকাবাসী:
সালেহ আহমদের মৃত্যুতে বড়লেখা পৌরসভার বাঁশতলা এলাকায় শোকের মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্বজনরা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমদ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক মানুষ ছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি পরিবারের সুখের জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন।
দ্রুত লাশ ফেরানোর দাবি:
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সালেহ আহমদের মরদেহ আজমানের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের বড় ভাই ও পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, যেন সরকারি উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা শুধু চাই আমাদের ভাইয়ের লাশটা যেন শেষবারের মতো একবার দেখতে পারি। সরকার যেন দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহলও সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।