আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন-তেহরান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন এক চরম নাটকীয় মোড়ে উপনীত হয়েছে। ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির ১০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার অবস্থান বা তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পুরস্কারের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেটওয়ার্ক তছনছ করা।
তালিকায় শীর্ষে মোজতবা খামেনি
পুরস্কারের তালিকায় প্রধান নাম হিসেবে রয়েছেন মোজতবা খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর পিতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি স্থলাভিষিক্ত হন। যদিও গুঞ্জন রয়েছে যে ওই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও আহত হয়েছিলেন এবং গত বৃহস্পতিবারের একটি বিবৃতি ছাড়া তাঁকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন দাবি
পুরস্কারের তালিকায় আরও রয়েছেন:
-
আলি লারিজানি: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান।
-
ইসমাইল খাতিব: গোয়েন্দা মন্ত্রী।
-
এসকান্দর মোমেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ভয়ে মাটির নিচে ‘লুকিয়ে’ আছে।
তেহরানের পাল্টা চিত্র ও রয়টার্সের তথ্য
মার্কিন দাবি সত্ত্বেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে তেহরানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি গতকাল শুক্রবার তেহরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে একটি বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। সেখানে তাঁদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং গণমাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিতেও দেখা যায়।
ইরানের অবস্থান
সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। তেহরানের মতে, মার্কিন এই পুরস্কার ঘোষণা এবং অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা একে ইরানের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার একটি সস্তা অজুহাত হিসেবে দেখছে।