আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত পারস্য উপসাগরের খারগ দ্বীপে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) পরিচালিত এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, এই হামলা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের মেহর নিউজ জানিয়েছে, খারগ দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে বিস্ফোরণ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।
কেন গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ?
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি আয়তনে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ হলেও ইরানের জন্য এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এই দ্বীপে হামলা দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলার পর এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘লাল রেখা’ বা সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়:
“যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সীমা অতিক্রম করে, তবে আমাদের সংযম শেষ হয়ে যাবে। আমরা এমন পদক্ষেপ নেব যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই অঞ্চল থেকে আগামী বহু বছর তেল ও গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করবে।”
আইআরজিসি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে যেকোনো ‘নিকৃষ্ট’ আক্রমণের চূড়ান্ত জবাব দিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, অঞ্চলের বাইরেও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বাহিনীটি।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা পুরো বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।