
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তেহরানের দাবি, তথাকথিত ‘সেল সদস্যরা’ এসব অস্ত্র গোপনে তাদের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল।
ইরানি গোয়েন্দা বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতা তদন্তের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:
আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ডিভাইস।
সামরিক কাজে ব্যবহৃত উচ্চপ্রযুক্তির উপকরণ।
জাহেদান শহরের সাতটি স্থান থেকে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সেলের গোপন নথি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১২ জানুয়ারি একটি বিদেশি ট্রানজিট ট্রাক থেকে ২৭৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের একটি বড় চালান জব্দ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত পেশাদারভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ইরানের ভেতর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের নিরাপত্তার প্রহরীরা আইএসআইএস (ISIS) সহ কোনো বিদেশি এজেন্টকে একচুল ছাড় দেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।”
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানানো হয়, পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা এই সন্ত্রাসী সেলগুলো মূলত জনসমাগমপূর্ণ বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা হামলার ছক কষেছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, বিদেশি শক্তি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়েছে।
মেজর জেনারেল মুসাভি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, জনগণকে রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা দেশের প্রতি তাঁদের পরম আনুগত্যের প্রমাণ।