২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে গণ-অভ্যুত্থানের উসকানি: নেতানিয়াহুর প্রস্তাব নাকচ করলেন ট্রাম্প

admin
প্রকাশিত ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৪:৩৭:৫২
ইরানে গণ-অভ্যুত্থানের উসকানি: নেতানিয়াহুর প্রস্তাব নাকচ করলেন ট্রাম্প

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৬ মার্চ, ২০২৬

Manual8 Ad Code

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সেদেশের জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বিমত: লক্ষ্য বনাম কৌশল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে কৌশলগত মতভেদ স্পষ্ট হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইরানি জনগণকে গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়ার প্রস্তাব করলে ট্রাম্প সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন:

“মানুষকে রাস্তায় নামতে বলার মানে কী, যখন তাদের গুলির মুখে স্রেফ কচুকাটা করা হবে?”

Manual2 Ad Code

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনকে একটি ‘অতিরিক্ত লাভ’ বা বোনাস হিসেবে দেখলেও, এর জন্য বড় ধরনের রক্তপাত বা মানবিক বিপর্যয় এড়াতে চায়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু একে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বাসিজ প্রধানকে হত্যা ও অস্থিতিশীলতার চেষ্টা

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভ দমনের প্রধান কারিগর সোলেইমানিকে হত্যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশটিতে গণ-অভ্যুত্থান সহজ করা। এই হত্যাকাণ্ডের পর নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান, ইরানি শাসনব্যবস্থা বর্তমানে বিশৃঙ্খল এবং একে আরও অস্থিতিশীল করার এটাই সেরা সুযোগ।

Manual4 Ad Code

নওরোজ ও আকাশ থেকে নজরদারি

যৌথ বিবৃতির প্রস্তাব ট্রাম্প নাকচ করে দিলে নেতানিয়াহু নিজেই নওরোজ (ইরানি নববর্ষ) উৎসবের সময় একটি প্রচ্ছন্ন উসকানি দেন। বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে তিনি বলেন:

Manual5 Ad Code

“আমাদের বিমান ইরানের সড়ক ও জনসমাগমস্থলে হামলা চালাচ্ছে যাতে জনগণ নওরোজ উদ্‌যাপনের সুযোগ পায়। আপনারা বাইরে বের হয়ে আসুন… আমরা আকাশ থেকে নজর রাখছি।”

তবে ইসরায়েলের এই আহ্বানে খুব কম সংখ্যক ইরানি রাস্তায় বের হয়। দীর্ঘস্থায়ী ভীতি ও সরকারি দমন-পীড়নের আশঙ্কায় জনগণ বড় ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: দুর্বল করা নাকি ধ্বংস?

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার সিএনএনকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনব্যবস্থাকে এতটাই দুর্বল করা যাতে তারা আর বিরোধীদের দমন করতে না পারে। তবে ট্রাম্প একদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলেও অন্যদিকে একটি কূটনৈতিক পথও খুঁজছেন, যাতে বর্তমান ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ টিকে থাকতে পারে।

নেতানিয়াহু অবশ্য অদূর ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।