আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ মার্চ, ২০২৬
ইরান-আমেরিকা চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট। তাদের সাম্প্রতিক ভূস্থানিক (Geospatial) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে অন্তত ২০টি ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইন এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভিডিও বিশ্লেষণ ও গতিপথ
বেলিংক্যাট ইরাকি কুর্দিস্তানের পিরামাগরুন পর্বতমালা এবং কিরকুক শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে সংগৃহীত একাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, অন্তত ২০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত নিচু উচ্চতা দিয়ে ইরানি সীমান্তের দিকে ধাবিত হয়েছে।
উৎক্ষেপণস্থল ও সামরিক কৌশল
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লোহিত সাগর নয়, বরং ভূমধ্যসাগর থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। কারণ বর্তমান অবস্থান থেকে লোহিত সাগরের দূরত্ব টমাহকের ১৬০০ কিলোমিটারের সর্বোচ্চ রেঞ্জকে ছাড়িয়ে যেত।
ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তি
এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি অত্যাধুনিক সংস্করণ দেখা গেছে: ১. ব্ল্যাক বডি: রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য বিশেষ ‘স্টিলথ কোটিং’ বা কালো রঙের প্রলেপযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র। ২. ফরোয়ার্ড সুয়েপ্ট উইং: রাডার সিগনেচার কমিয়ে আনতে সামনের দিকে বাঁকানো ডানাবিশিষ্ট নকশা।
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
বেলিংক্যাটের প্রতিবেদনে ভয়াবহ কিছু ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে:
-
ইরান: তেহরানের ‘কুরখানে বাস টার্মিনাল’-এর ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার দৃশ্য জিওলোকেট করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের মানিব এলাকায় একটি স্কুলে টমাহক আঘাত হানলে শিশুসহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
-
সিরিয়া: সিরিয়ার কাফর জিতা এলাকায় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট অবিস্ফোরিত মার্কিন ওয়ারহেড পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ব্রায়ান ফিনুকেন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি ছাড়া আকাশসীমা ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরাকি ভূখণ্ড প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।