
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬
ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার নীতি-নির্ধারক ও কট্টরপন্থী মহলে গভীর অস্বস্তি ও শঙ্কা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর মস্কোর একাংশ ইউক্রেন ইস্যুতে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর তা দ্রুত ফিকে হয়ে আসছে।
রুশ কট্টরপন্থীরা এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন আর বিশ্বাসযোগ্য কোনো পক্ষ নয়। রুশ জাতীয়তাবাদী ধনকুবের কনস্ট্যান্টিন মালোফিভ বলেন:
“নীতিহীন যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি। তারা একটি দুর্বল ইউরোপের পাশাপাশি দুর্বল রাশিয়াও চায়।”
প্রভাবশালী যুদ্ধ-ব্লগার বরিস রোঝিন (কর্নেল ক্যাসাড) ট্রাম্পকে ‘ক্ষমতায় উন্মত্ত এক দানব’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এমন কারও সঙ্গে কোনো চুক্তিতে আসা হবে চরম বোকামি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানালেও ক্রেমলিন কৌশলগতভাবে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে আক্রমণ করা থেকে বিরত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মস্কো একদিকে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করছে, অন্যদিকে ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনার পথও খোলা রাখতে চাইছে।
কিছু রুশ বিশ্লেষক এই সংকটের মাঝেও রাশিয়ার জন্য দুটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন: ১. তেলের দাম বৃদ্ধি: পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে, যা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে। ২. ইউক্রেনে মনযোগ হ্রাস: যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ কমে যেতে পারে।
আলেক্সান্ডার দুগিনের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী দার্শনিকরা মনে করছেন, ট্রাম্প পদ্ধতিগতভাবে রাশিয়ার মিত্রদের সরিয়ে দিচ্ছেন। সিরিয়ায় আসাদের পতন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দুগিন সতর্ক করে বলেছেন:
“ইরান যদি ভেঙে পড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হবে রাশিয়া। ট্রাম্প এখন নব্য-রক্ষণশীলদের (Neo-conservatives) দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।”
উপসংহার: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান রাশিয়ার ভেতরের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ক্রেমলিনের কৌশলগত হিসাব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়েছে।