
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লণ্ডন ৭ মার্চ, ২০২৬
ইরানে চলমান মার্কিন বিমান হামলায় ব্রিটিশ সরকার সরাসরি জড়িত বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য জারা সুলতানা। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ মাটি ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, যা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জারা সুলতানা উল্লেখ করেন, মার্কিন বি-১ (B-1) ল্যান্সার বোমারু বিমানগুলো ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে উড়ে গিয়ে ইরানে বোমা ফেলছে। তিনি বলেন:
"এর অর্থ হলো যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধের অংশ নয়, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাঁর বক্তব্যের সাথে বর্তমান সামরিক কর্মকাণ্ডের কোনো মিল নেই।"
এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্য কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে 'প্রতিরক্ষামূলক' হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে। তবে জারা সুলতানার এই অভিযোগ সেই দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের চরম উত্তেজনার মধ্যে গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) ঘাঁটিতে অবতরণ করে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বোমারু বিমান বি-১ ল্যান্সার। সামরিক মহলে এটি 'দ্য বোন' নামে পরিচিত।
বি-১ ল্যান্সার-এর কারিগরি সক্ষমতা:
গতি: ঘণ্টায় ৯০০ মাইল (শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী)।
ওজন ও আকার: ৮৬ টন ওজন, ১৪৬ ফুট লম্বা এবং ১৩৭ ফুট উইংস্প্যান।
অস্ত্রক্ষমতা: এটি একসঙ্গে ২৪টি ক্রুজ মিসাইল বহন করতে সক্ষম।
প্রযুক্তি: উন্নত রাডার, জিপিএস সিস্টেম এবং শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ইলেকট্রনিক জ্যামার ও ডিকয় সিস্টেমে সজ্জিত।
বিশালদেহী এই যুদ্ধবিমানটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে অবতরণের পর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয় যে, রাতেই হয়তো বড় ধরনের কোনো হামলা চালানো হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বি-১ বিমানের এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং এর ফলে লণ্ডন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।