ওয়াশিংটন ডেস্ক | ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘শন হ্যানিটি শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং যেকোনো সময় সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধের শেষ দেখতে পাচ্ছেন রুবিও
সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধের শেষ দেখতে পাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত।” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনোভাবেই ‘ভুয়া আলোচনা’র সুযোগ দেবেন না। আলোচনাকে কালক্ষেপণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিতে আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাষণেই যুদ্ধের সমাপ্তি বা নতুন কোনো চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।
‘ইরান এখন ধ্বংসস্তূপ’: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাবি করেন যে, ইরান এখন চুক্তি করার জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী:
-
সামরিক শক্তি নিশ্চিহ্ন: ইরানের নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
-
প্রতিরোধহীন ইরান: ট্রাম্পের দাবি, “তারা আমাদের দিকে গুলি চালানোর মতো সক্ষমতাও হারিয়েছে। তাদের সব সরঞ্জাম এখন ধ্বংসস্তূপ।”
-
একই লক্ষ্য: ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রহীন রাখা, যা অর্জিত হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ছাড়বে মার্কিন বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র কবে নাগাদ ইরান ছাড়বে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এক চমকপ্রদ তথ্য দেন। তিনি জানান, কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে। তিনি বলেন, “আমরা কাজ শেষ করছি। হয়তো দুই সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময় নিয়ে আমরা চলে যাব।”
তবে ট্রাম্প এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই ইরান ছাড়বে যখন নিশ্চিত হওয়া যাবে যে দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সক্ষমতা নেই।
বিশ্লেষণ: মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিগুলো যদি সত্য হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এটি এক বিশাল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। একদিকে আলোচনার টেবিল, অন্যদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত দাবি—সব মিলিয়ে আজ রাতের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।