
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং অভ্যন্তরীণ বিতর্কের কারণে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে ‘অশনিসংকেত’ দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক জোনাথন লেমায়ারের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের ধারণা ছিল ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলা অভিযানের মতো ইরান যুদ্ধও হবে সংক্ষিপ্ত ও সফল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান দমে যাওয়া তো দূরের কথা, বরং তারা বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করেছে। ট্রাম্পের ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার হুমকির জবাবে ইরান বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী দিয়ে প্রণালি অবরোধের পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তাকে বিশ্বমঞ্চে একা করে ফেলেছে। যুদ্ধের আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কোনো আলোচনা না করায় এখন সংকটের সময়ে কাউকে পাশে পাচ্ছেন না তিনি। ডেনমার্কের কাছ থেকে ‘গ্রিনল্যান্ড’ দাবি করার মতো অদ্ভুত আচরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার ওপর চরম অসন্তুষ্ট। এমনকি নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও কট্টরপন্থীরা এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ বলে সমালোচনা করছেন।
একই সপ্তাহে বিশ্বের বৃহত্তম দুই ধর্মের অনুসারীদের ক্ষুব্ধ করেছেন ট্রাম্প। ইস্টার সানডের সকালে মুসলিমদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিজেকে যিশুখ্রিষ্টের রূপে উপস্থাপন করায় খোদ পোপ লিও চতুর্দশের রোষানলে পড়েছেন তিনি। পোপকে ‘উগ্র বামপন্থী’ বলে আক্রমণ করায় নিজের দলের ক্যাথলিক ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অন্দরেও এখন অস্বস্তির ছায়া। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের হঠাৎ ‘জেফরি এপস্টেইন’ কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খোলা পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরিতে ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর ওরবানের পরাজয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক মডেলের ব্যর্থতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষণ: সামনে নভেম্বরের নির্বাচন। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের ব্যয়ভার নিয়ে জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে রিপাবলিকানরা এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পরাজয়ের আতঙ্কে দিন গুনছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বনেতা থেকে শুরু করে ধর্মীয় গুরু—কেউই এখন আর ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’কে পরোয়া করছেন না, যা তার পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।