
জেরুজালেম | নিজস্ব প্রতিবেদক ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইসরায়েলের অর্থনীতির এক বিধ্বংসী চিত্র সামনে এসেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন শেকেল, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যুদ্ধের স্থায়ীত্ব বাড়লে এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ব্যয় যুক্ত হলে এই অঙ্ক কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোট ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৪০ বিলিয়ন শেকেল (১২.৯ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় হয়েছে সরাসরি সামরিক অভিযানে। এই খরচের প্রধান খাতগুলো হলো:
গোলাবারুদ ও প্রযুক্তি: কয়েক হাজার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টরের ব্যবহার।
বিমানবাহিনী: লেবানন ও ইরানে নিরবচ্ছিন্ন হামলার জন্য কয়েক হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা।
রিজার্ভ সৈন্য: লাখ লাখ রিজার্ভ সৈন্যের সার্ভিস ডে ও ভাতাবাবদ বিশাল খরচ।
এছাড়াও, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৭ বিলিয়ন শেকেল বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং কাজ হারানো কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দিতেই ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন শেকেল ব্যয় করতে হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের জন্য ২৮,২৩৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১৮,৪০৮টি ভবন
৬,৬১৭টি যানবাহন
২,৫৯৪টি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম
ক্ষয়ক্ষতির আবেদনে শীর্ষে রয়েছে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব। শহরভিত্তিক আবেদনের তালিকা:
তেল আবিব: ৫,১০০ আবেদন।
বীরশেবা: ৩,৬০০ আবেদন।
আরাদ: ২,৩৫০ আবেদন।
পেতাহ তিকভা: ২,০০০ আবেদন।
ডিমোনা ও বেইত শেমেশ: সম্মিলিতভাবে ২,৯০০ আবেদন।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার কেবল একটি প্রাথমিক হিসাব। যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা কলকারখানা ও স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির ফলে জিডিপির (GDP) যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত মঙ্গলবার পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও লেবানন সীমান্তে সংঘাত থামছে না। বুধবার ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন লেবানিজ নিহতের ঘটনায় পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ রক্তপাত চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন কেবল প্রাণের বিনাশ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির ভিতকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে।