আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ মার্চ, ২০২৬
ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার এই দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষও যদি বাস্তুচ্যুত হয়, তবে তা ‘অভূতপূর্ব মাত্রার’ এক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ
ইইউএএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার আগে থেকেই ইরানকে একটি সম্ভাব্য বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরান থেকে বড় ধরনের শরণার্থীর ঢল নামলে তাদের বর্তমান আশ্রয়ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে:
-
ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশ করা শরণার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
-
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে শরণার্থীদের প্রবেশ এখন ইইউ-এর জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম সীমান্ত-নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
-
একজন কূটনীতিকের ভাষায়, “ইরানে বড় সংকট তৈরি হলে এর চড়া মূল্য ব্রিটেনকেও দিতে হবে।”
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আফগান শরণার্থী
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান নিজেই বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ শরণার্থী (মূলত আফগান) অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলার আগেই ইরান চরম অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, যা এখন যুদ্ধাবস্থায় আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও আইওএম-এর সতর্কতা
এদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষে নতুন করে ৮ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সমগ্র অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আরও লাখ লাখ পরিবার ঘরছাড়া হবে।
পরিসংখ্যান: আশ্রয় আবেদনের নিম্নমুখী প্রবণতা কি বজায় থাকবে?
ইইউএএ-র তথ্যমতে, গত বছর শেনজেন অঞ্চলে আশ্রয় আবেদন ১৯ শতাংশ কমে ৮ লাখ ২২ হাজারে নেমে এসেছিল, যা ২০১৯ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে সংস্থাটি কঠোরভাবে সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এই হ্রাসকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ:
“ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। ৯ কোটি মানুষের একটি দেশে আংশিক অস্থিতিশীলতাও বৈশ্বিক অভিবাসন মানচিত্রকে ওলটপালট করে দিতে পারে।”