
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের রহস্য উন্মোচনে বড় ধরনের অগ্রগতির কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলীর গুম সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘কানেকশন’ বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মামুন খালেদকে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এবং ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মামুন খালেদ ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঠিক এই সময়েই (২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন ইলিয়াস আলী।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "মামুন খালেদের কাছ থেকে ইলিয়াস আলীর গুম সংক্রান্ত কিছু কানেকশন পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা বিশ্বাস করি প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে পারব।"
ইলিয়াস আলী গুমের তদন্তে মেজ জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষীদের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ বা ‘এভিডেন্স’ সংগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে বর্তমানে জিয়াউল আহসানের বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। সেই মামলার কিছু সাক্ষীর জবানবন্দিতেও ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধানের বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রসিকিউশন টিম ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, খুব দ্রুতই এই সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের দীর্ঘ এক দশক পর নতুন করে এই তদন্ত ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে ভুক্তভোগী পরিবার ও রাজনৈতিক মহল।