
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৬ এপ্রিল) পৃথক দুটি অভিযানে কুদস ফোর্সের গোপন ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরি এবং আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা কুদস ফোর্সের আন্ডারকাভার বা গোপন ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকে লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালিয়েছে।
আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি এক বিবৃতিতে বলেন, নিহত বাকেরি ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। এ ছাড়া সিরিয়া ও লেবাননে কুদস ফোর্সের গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন। তবে বাকেরির মৃত্যুর বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
অন্যদিকে, আইআরজিসি নিজেই তাদের গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আজ আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর চলমান আগ্রাসী হামলায় মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি শহীদ হয়েছেন।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়:
"মেজর জেনারেল খাদেমি গত প্রায় ৫০ বছর ধরে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামি স্বদেশের প্রতি আন্তরিক এবং সাহসী অভিভাবকত্ব করে গেছেন। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপূরণীয়।"
একই দিনে দুই শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার মৃত্যু ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য একটি বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন একটি সরাসরি ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। তেহরান এই হামলার প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।