
নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
জামালপুরের ইসলামপুরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক পৌর কমিশনারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের সাত নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী কমিশনার ছামিউল হকের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন যে, ওই কমিশনার অবৈধভাবে পেট্রল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাহমুদুল হাসান হাসমতের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কমিশনার ছামিউলের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বাধা দিতে গেলে কমিশনারের ছোট বোন শরিফা বেগমকে মারধর এবং ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
কমিশনার ছামিউল হকের ভাষ্য: কমিশনারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অভিযুক্তরা তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর আগে প্রাণভয়ে তিনি দুই দফায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এবার ৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় তাঁর বাড়িতে এই তান্ডব চালানো হয়েছে।
অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত নেতারা। সেখানে উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান হাসমত বলেন:
"আমাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কমিশনার ছামিউল ঝর্ণা ফিলিং স্টেশন থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার পেট্রল সংগ্রহ করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম এবং সত্যতা পেয়েছি। আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতি করি, চাঁদাবাজি নয়।"
লিখিত অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: ১. মাহমুদুল হাসান হাসমত (উপজেলা বিএনপি)
২. মো. হাসান (পৌর বিএনপি)
৩. আব্দুর রাজ্জাক (উপজেলা ছাত্রদল)
৪. আলী নূর ইসলাম (উপজেলা যুবদল)
৫. মো. সোয়াদ (ছাত্রদল কর্মী)
৬. রোকনুজ্জামান রুকন (সাবেক যুবদল নেতা)
৭. নুরুজ্জামান (যুবদল কর্মী)
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানিয়েছেন, কমিশনারের স্ত্রীর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।