২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইসলামে অন্যায় হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা

admin
প্রকাশিত ১০ আগস্ট, রবিবার, ২০২৫ ১৭:০১:৩১
ইসলামে অন্যায় হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা

Manual6 Ad Code

জুলুম আরবি শব্দ। জুলুমের অর্থ ব্যাপক এবং অনেক বিস্তৃত। সাধারণত জুলুম অর্থ নির্যাতন, নিপীড়ন। শরিয়তের পরিভাষায় জুলুম বলা হয়—কোনো উপযুক্ত জিনিসকে উপযুক্ত স্থানে না রেখে অনুপযুক্ত স্থানে রাখা। যে জুলুম করে তাকে জালিম বলা হয়। মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে একজন অন্যজনের ওপর জুলুম করে। কেউ নিজেই নিজের নফসের ওপর জুলুম করে। আবার কেউ পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলুম করে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

Manual3 Ad Code

নিজের নফসের ওপর জুলুম করা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তাদের প্রতি জুলুম করি নি; বরং তারা নিজেরাই ছিল জালেম। (সুরা জুখরুফ: ৭৬)

Manual7 Ad Code

জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুলুম করা থেকে নিজেকে বাঁচাও। কেননা, কিয়ামতের কঠিন দিনে জুলুম কঠিন অন্ধকাররূপে আত্মপ্রকাশ করবে। (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৭৮)

জুলুমের বিভিন্ন প্রকার ও পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অন্যায়ভাবে কাউকে মারধর করা, হত্যা করা। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট কাজ। যারা এ ধরনের কাজ করে। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা আল্লাহ তাআলা একজন মুমিনের রক্ত, ইজ্জত-আবরু অন্য মুমিনের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। কেউ চাইলেই বিনষ্ট করতে পারবে না, শরিয়ত সেই অনুমোদন কাউকে দেয়নি।

Manual1 Ad Code

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘একজন মানুষ মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। একজন মুসলিমের ওপর প্রতিটি মুসলমানের জান-মাল ও ইজ্জত-আবরু হারাম।’ (সহিহ্ মুসলিম ২৫৬৪)

শরিয়ত যাকে হত্যা করা বৈধতা দেয়নি, অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের প্রতি বিধান দিয়েছিলাম, কেউ যদি কাউকে হত্যা করে এবং তা অন্য কাউকে হত্যা করার কারণে কিংবা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তারের কারণে না হয়, তবে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারও প্রাণ রক্ষা করে, সে যেন সমস্ত মানুষের প্রাণরক্ষা করল। বস্তুত আমার রাসুলগণ তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছে, কিন্তু তারপরও তাদের মধ্যে বহু লোক পৃথিবীতে সীমালংঘনই করে যেতে থাকে। (সুরা মায়িদা: ৩২)

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘পৃথিবী ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া আল্লাহর নিকট কোনো মুসলমান ব্যক্তির অন্যায়ভাবে নিহত হওয়া অপেক্ষা তুচ্ছতর।’ (সুনানে নাসায়ি: ৩৯৮৭)

Manual6 Ad Code