
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর। সিলেট নগরীর সৈয়দানীবাগের শান্ত-স্বভাবের যুবক সৈয়দ নয়ন আহমদকে ইয়াবা মামলায় গ্রেপ্তারের পর কেটে গেছে প্রায় সাত বছর। কিন্তু মামলার সেই ক্ষত আজও শুকায়নি। পরিবারের অভিযোগ—মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং প্রভাবশালী একটি মহলের রোষানলের শিকার হয়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগের তীর তৎকালীন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনোজসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দিকে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পুলিশকে ব্যবহার করে নয়নকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পরিবারের ভাষ্য, পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার পর থেকেই নয়ন প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হন। এরপরই তাঁকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। নেপথ্যে কয়েকটি পরিবারের সংঘবদ্ধ ভূমিকা থাকারও অভিযোগ করেছে পরিবার। অভিযোগের মধ্যে বিশেষ করে নাহিদুর রহমান সাব্বির ওরফে ডন ও ইয়াবা সাব্বির ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এরাই হচ্ছে মূল ষড়যন্ত্রকারী এদের কারণেই নয়নের পরিবার আজ ধ্বংসের পথে।
নয়নের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় তিনি শান্ত প্রকৃতির মানুষ হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ঘটনা তাঁদের জানা নেই। বরং পরিবারের দাবি, নয়ন নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
এদিকে সাত বছর পর পুরোনো মামলার বিষয়টি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। তাঁদের অভিযোগ, ফেসবুকে নয়ন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির চেষ্টা চলছে।
নয়নের পরিবারের প্রশ্ন—২০১৯ সালের ওই মামলার পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল? উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের নথিতে কী তথ্য রয়েছে? মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ছিল? আর যদি তিনি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে মামলায় জড়ানোর নেপথ্যে কারা ছিল?
সৈয়দ নয়ন আহমদ এখন একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর আবেদন—অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রচারণা নয়; তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য। তিনি দাবি করেন, তাঁকে যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।
সাত বছর ধরে বয়ে চলা এই প্রশ্নের উত্তর এখন একটাই—২০১৯ সালের সেই ইয়াবা মামলায় আসলে অপরাধী কে, আর ভুক্তভোগীই বা কে?