নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চৈত্রের দাবদাহ ছাপিয়ে এক পশলা বৃষ্টি শান্তি আনলেও ঈদ উৎসবের ঘোরাঘুরি ও আড্ডায় তা কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০ ও ২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদের দিন ও বৃষ্টির সম্ভাবনা
আগামী ১৯ মার্চ পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে ২১ মার্চ। তবে সম্ভাব্য এই দুই দিনেই দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকবে বলে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান:
“আগামী ২০ ও ২১ মার্চ দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে, তবে এই দুই দিন বৃষ্টিপাতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকবে।”
আবহাওয়া পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিক মৌসুমি লঘুচাপ রয়েছে। এর প্রভাবেই ২০ ও ২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন বিভাগে নিম্নোক্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে:
-
বিভাগীয় পূর্বাভাস (২০ মার্চ): রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
-
বিভাগীয় পূর্বাভাস (২১ মার্চ): এদিন সবকটি বিভাগেই (রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট) বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
বিশেষ সতর্কতা: কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ঈদ আনন্দ ও সতর্কতা
বৃষ্টিস্নাত ঈদ মানেই ঘরোয়া পরিবেশে আড্ডা আর পছন্দের খাবারের ধুম। তবে যারা খোলা মাঠে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য বৃষ্টির এই পূর্বাভাস কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা ঈদের নামাজ ও ঈদযাত্রার ক্ষেত্রে ছাতা বা রেইনকোট সাথে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।