
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং মলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এই আদেশ প্রদান করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে—একটি করেছেন শপিং মলের এক কর্মী এবং অন্যটি করেছে পুলিশ। পুলিশের করা মামলায় প্রায় ৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আজ বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন: মো. মনির আলম, মো. মজিবর রহমান, মো. হৃদয়, মো. মঞ্জুরুল, মো. মহব্বত আলী, শাহ পরান, মো. শাকিল, মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে আ. রশিদ, মো. সাজু, মো. লিটন এবং জিহাদ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোনারগাঁও জনপদ রোডের এই শপিং কমপ্লেক্সের সামনে একজন রিকশাচালকের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ১৫-২০ জন রিকশাচালক মিলে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে “রিকশাচালক নিহত হয়েছেন” এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৬০০-৭০০ জন উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে মার্কেটে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার কাঁচ ভাঙচুর করে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ‘খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর’ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল এবং ‘কে জেড ইমিটেশন জুয়েলারি’ থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে শপিং কমপ্লেক্সটির প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়। শপিং কমপ্লেক্সের ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় ১১ জনকে এবং পুলিশের মামলায় আরও ৫ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই শামীম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বাকি আসামিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।