নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে দেশের ক্রিকেট। বিসিবি সভাপতির কারণ দর্শানোর নোটিশ সত্ত্বেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। কোয়াব (COAB) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের ডাকা ধর্মঘটের মুখে আজ মিরপুরে বিপিএলের ঢাকা পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মাঠে নেই ক্রিকেটাররা, গন্তব্য শেরাটন
আজ দুপুর ১টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ ও ‘চট্টগ্রাম রয়্যালস’-এর ম্যাচ দিয়ে ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো দলের বাস স্টেডিয়ামে পৌঁছায়নি। জানা গেছে, বিপিএলের সব ক্রিকেটার বর্তমানে বনানীর হোটেল শেরাটনে অবস্থান করছেন। ক্রিকেটারদের দাবি—নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
যে মন্তব্যে আগুনের সূত্রপাত
সম্প্রতি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে দেয়। গতকাল বিসিবিতে এক দোয়া মাহফিল শেষে তিনি বলেন, “তোমাদের পেছনে যত টাকা খরচ করেছি, এই টাকা তোমাদের কাছ থেকে নিতে থাকি। তোমরা ফেরত দাও।” এছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, বোর্ড এখানে লাভ বা ক্ষতির কিছু দেখে না।
এর আগে তামিম ইকবালকে ‘পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল’ বলা এবং তাসকিন-শান্তদের পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্রিকেটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
বিসিবির শোকজ ও কোয়াবের আলটিমেটাম
পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ সকালে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব চেয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন ক্রিকেটাররা। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন গত রাতেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ বেলা ১টায় বনানী হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন মিঠুন।
বিশ্বকাপ ও ভেন্যু সংকট
ক্রিকেটারদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাঝেই আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারত থেকে ভেন্যু সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অস্থিরতা না কাটলে আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বিশাল রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ।
বর্তমান অবস্থা
সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিরপুরের গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিত থাকলেও মাঠ এখনো জনশূন্য। সবার নজর এখন বনানীর শেরাটন হোটেলে কোয়াব সভাপতির সংবাদ সম্মেলনের দিকে। নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ নাকি বিসিবির হস্তক্ষেপে বিপিএল আবার মাঠে গড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে।