১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

উম্মে মাবাদের তাঁবুতে নবীজি (সা.)-এর অলৌকিক মুজিজা

admin
প্রকাশিত ২৯ অক্টোবর, বুধবার, ২০২৫ ১৭:৫৯:৩৮
উম্মে মাবাদের তাঁবুতে নবীজি (সা.)-এর অলৌকিক মুজিজা

Manual1 Ad Code

ধর্ম ডেস্ক | মক্কা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে, মুশাল্লাল
হিজরতের পথে ঘটে গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর হাতের স্পর্শে এক জীর্ণ বকরি হয়ে উঠল দুধে পরিপূর্ণ। এ ঘটনার সাক্ষী ছিলেন মর্যাদাশীল, অতিথিপরায়ণ নারী উম্মে মাবাদ খুজইয়া (রা.)

মক্কা থেকে হিজরতের সময় নবী (সা.) ও তাঁর প্রিয় সঙ্গী আবু বকর (রা.) তিন দিন সওর গুহায় অবস্থান শেষে মদিনার পথে রওনা হন। পথিমধ্যে তাঁরা থামেন মুশাল্লাল নামক স্থানে—যেখানে উম্মে মাবাদ ছিলেন মুসাফিরদের আপ্যায়নে সদা প্রস্তুত।


দুধহীন বকরিতে নবীজির বরকত

যাত্রাক্লান্ত নবীজি (সা.) তাঁর কাছ থেকে কিছু খাদ্য বা দুধ চান। উম্মে মাবাদ আন্তরিকভাবে বলেন,

Manual6 Ad Code

“আল্লাহর কসম, কিছু থাকলে আপনাকে দিতে কার্পণ্য করতাম না।”

তাঁবুর পাশে ছিল এক জীর্ণ, রোগা বকরি। উম্মে মাবাদ জানালেন, সেটি এতই দুর্বল যে দুধ দেওয়ার শক্তিও নেই।

Manual2 Ad Code

নবী (সা.) মৃদু হেসে বললেন,

“আমি কি এটি দোহনের অনুমতি পেতে পারি?”

উম্মে মাবাদ সম্মত হলে নবীজি (সা.) বকরির ওলানে হাত বুলিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন।
সঙ্গে সঙ্গেই বকরির দেহে প্রাণ ফিরে এল, ওলান ভরে গেল দুধে।

নবী (সা.) বড় একটি পাত্র আনতে বললেন, নিজ হাতে দুধ দোহালেন। প্রথমে উম্মে মাবাদ পান করে তৃপ্ত হলেন, এরপর উপস্থিত সবাই। সবশেষে নবীজি (সা.) নিজেও পান করলেন। যাত্রার আগে আবারও পাত্রভর্তি দুধ রেখে নবীজি (সা.) রওনা দিলেন মদিনার পথে।

Manual8 Ad Code


‘এ তো বরকতের হাতের ছোঁয়া’

অল্প সময় পর উম্মে মাবাদের স্বামী আবু মাবাদ ঘরে ফিরে পাত্রভর্তি দুধ দেখে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

“ঘরে তো কোনো দুধেল বকরি নেই, দুধ এলে কোথায়?”

উম্মে মাবাদ উত্তরে বললেন,

“এ তো সেই বরকতের হাতের ছোঁয়া, যিনি অল্প সময়ের জন্য আমার মেহমান ছিলেন।”

তিনি স্বামীর কাছে নবীজির রূপ, শিষ্টতা ও কথা বলার ভঙ্গি এত সুন্দরভাবে বর্ণনা করলেন যে আবু মাবাদ বললেন,

“আল্লাহর কসম! তিনি তো সেই কুরাইশি ব্যক্তি—যাঁর কথা বহুবার শুনেছি। সুযোগ পেলে তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করব না।”


এই অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় ‘আর রাহিকুল মাখতুম’ (পৃষ্ঠা ২৮৯–২৯০) এবং ‘মুসতাদরাকে হাকেম’ (হাদিস নম্বর ৪৩২৬)-এ।
মুসলমানদের বিশ্বাস, এ ঘটনা নবী (সা.)-এর মুজিজা ও আল্লাহর রহমতের একটি অনন্য নিদর্শন।

Manual4 Ad Code