কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা উৎমা ছড়া পর্যটনকেন্দ্রে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে পর্যটকদের কাছে মাদকের প্রস্তাব দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পর্যটক ও স্থানীয়রা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা পড়ছেন অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
সম্প্রতি উৎমা ছড়া ঘুরে সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে উল্টো প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী এক পর্যটক আল-আমিন জানান, “উঠতি বয়সের দুই কিশোর এসে জিজ্ঞেস করল—‘ভাই কিছু লাগবে?’ আমি জানতে চাইলে তারা বলে, ‘বোতল লাগবে? ভারতীয় মদ, বিয়ার, ফেনসিডিল আছে।’ আমার সঙ্গে ছোট ভাই ছিল, এমন প্রশ্নে আমি বিব্রত হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, পাহাড়, ঝরনা ও স্বচ্ছ জলের সৌন্দর্য দেখতে এসে এমন পরিবেশ অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শিশু ও পরিবারসহ নানা বয়সী পর্যটক উৎমা ছড়ায় ঘুরতে আসেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ী উঠতি বয়সী কিশোরদের দিয়ে মাদক বহন ও বিক্রি করাচ্ছে। কোনো পর্যটক রাজি হলেই পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের ঝোপঝাড়ে নিয়ে গিয়ে নিরাপদে মাদক সেবনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উৎমাছড়ায় মাদক বিক্রি ও সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু সময় পর আবারও তারা ফিরে এসে আগের মতো মাদক বাণিজ্য শুরু করে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করলে উৎমাছড়া মাদকমুক্ত করা সম্ভব।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি পুলিশ ও বিজিবির জানা থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে প্রকাশ্যে মাদকের এমন বিস্তার উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, “আমাদের চোখের সামনেই শিশু-কিশোরদের দিয়ে মাদক বিক্রি করানো হয়। বাধা দিতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দেয়।”
স্থানীয় সংবাদকর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, “মাদক ব্যবসার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগে নির্জন জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন পর্যটনকেন্দ্রে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “উৎমা ছড়া মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে—এটা সত্য। গ্রাম পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, “উৎমাছড়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় সেখানে আমাদের স্থায়ী ডিউটি নেই। তবে মাদক বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, “উৎমা ছড়ায় পুলিশ ও বিজিবিকে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে যারা মাদক ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”