
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দল কোনো ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ গঠনে আগ্রহী নয়। এক সময়কার মিত্র ও বর্তমানে প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিএনপি এককভাবেই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।
সম্প্রতি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৬০ বছর বয়সী এই নেতা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। জামায়াতের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তিনি এক ব্যতিক্রমী যুক্তি তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন,
"আমি যদি আমার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়েই সরকার গঠন করি, তবে বিরোধী দলে বসার জন্য কে থাকবে? একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অপরিহার্য।"
জামায়াতের আসন প্রাপ্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দলটি সংসদে একটি ‘গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার পলায়নের পর দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে বীরের বেশে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হলেও, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি নিজেদের ‘একক বিজয়ী’ হিসেবে দেখছে।
বিএনপি হাইকমান্ড জানিয়েছে, তারা ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। বাকি ৮টি আসন ছোট সমমনা দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত।
সাক্ষাৎকারে ভারত ও চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের কিছুটা শীতলতা থাকলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবে।
অর্থনীতি: ২০২৪ সালের অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্টস খাতকে সচল করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা ইস্যু: রোহিঙ্গাদের ‘মেহমান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান, তবে মানবিক কারণে আশ্রয় অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ থাকায় মূল লড়াইটি হচ্ছে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তি (বিএনপি-জামায়াত) এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। যদিও জনমত জরিপে বিএনপি অনেক এগিয়ে, তবে জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক শক্তি এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন দলগুলোর প্রভাব বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল নতুন সরকার গঠন নয়, বরং উত্তর-বিপ্লব বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার এক অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।