
একাই তিনজনকে হত্যা করে চলে গেছে—এমনটি সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় প্রবীণ দম্পতি ও তাঁদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল মিয়ার ১৫-২০ দিনের ‘সম্পর্ক’ ছিল। শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাহমিনা ও পরে বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যা করেন তিনি।
তবে নানা প্রশ্নের পর এখন পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বাবুল ও তাহমিনার মধ্যে মূলত ‘চেনাজানা সম্পর্ক’ ছিল। তাহমিনার কথায় বাবুলের ‘ইগোতে আঘাত’ লাগে। এর প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাহমিনার বাবা, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবীরা। তাঁদের প্রশ্ন, শুধু সম্পর্কের বিরোধের জেরে একজন কিশোরীকে হত্যার পর প্রবীণ দম্পতিকেও কেন হত্যা করা হবে? তিনজনের মরদেহ তিনটি পৃথক কক্ষে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টিও তাঁদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
তাহমিনার বাবা জানান, তাঁর মেয়ে কখনো ওই বাসায় কোনো সমস্যার কথা বলেনি। মাত্র এক মাস ১২ দিন আগে সে সেখানে গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, তাহমিনা ছিল সহজ-সরল প্রকৃতির এবং তার সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্কের কথা পরিবার জানত না।
এদিকে রায়নগরবাসীর মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ব্যক্তি একাই তিনজনকে হত্যা করে চলে গেছে—এমনটি সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে।