
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, বৃহস্পতিবার
দেশে মাত্র এক সপ্তাহে সাতবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম ভূমিকম্পটি ঘটে গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
এ ঘটনার পর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন শনিবার সকালে আবারও নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একইদিন সন্ধ্যায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও দুটি ভূকম্পন হয়—এর একটি ঢাকার বাড্ডায়, অন্যটি আবারও নরসিংদীতে।
এরপর বুধবার গভীর রাত ৩টা ২৯ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস)। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে।
মাত্র এক মিনিট পর সিলেটের ২৪ কিলোমিটার উত্তরে আরও একটি ৩ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
সবশেষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল, মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬।
২১ নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত এই সাতবার ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।