ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দপ্তরের ব্যক্তিগত সহকারী মো. কাউসারের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করছে। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দিয়েছে এনবিআর।
এনবিআর জানায়, একটি প্রতারক চক্র মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে ফোনকল, মেসেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মো. কাউসারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বসাধারণকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কেউ এমন ফোনকল বা বার্তার সম্মুখীন হলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, মো. কাউসার উল্লেখ করেন, ২৩ ডিসেম্বর এনবিআরের তৎকালীন উপ-কর কমিশনার (বর্তমানে যুগ্ম কর কমিশনার) রইসুন নেসা তাঁকে জানান, তাঁর কাছে কাউসারের নাম ব্যবহার করে ০১৭০১৮৯০৩৮৭ নম্বর থেকে ফোন করা হয়। ফোনে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ রয়েছে’ দাবি করে টাকা চাওয়া হয় এবং বিকাশের মাধ্যমে ০১৩২৮০৮৩২১৬ নম্বরে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই চক্র অন্যান্য কর্মকর্তার কাছেও একই কৌশলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছে। কাউসার জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করছে, তবে এদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর অঞ্চল-কুষ্টিয়ার পরিদর্শী রেঞ্জ-৪-এর যুগ্ম কর কমিশনার রইসুন নেসা আজকের পত্রিকাকে বলেন, “আমাকে কাউসারের নামেই ফোন করা হয়েছিল। আমি বিষয়টি তাঁকে জানাই। এরপর আর কোনো ফোন আসেনি।”
এ প্রসঙ্গে মো. কাউসার বলেন, “কোনো একটি প্রতারক চক্র এ কাজ করছে। এর আগেও চেয়ারম্যান স্যারের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে বিভিন্নজনের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল।”
এ ঘটনায় এনবিআর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে।